রাতে ঘুমানোর আগে কিসমিস খেলে কি হয় - উপকারিতা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
আপনি কি জানেন রাতে ঘুমানোর আগে কিসমিস খেলে কি হয়? রাতে ঘুমানোর আগে কিসমিস খেলে কি হয় তা আমাদের অনেকেরই অজানা। কিসমিস অনেক বেশি পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ ও উপকারী একটি খাবার। এটি আমাদের শরীরের জন্য অনেক অনেক বেশি উপকারী, এক কথায় সুপার ফুড ও বলা চলে।
রাতে ঘুমানোর আগে কিসমিস খেলে কি হয়, কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা, কিসমিস খাওয়ার অপকারিতা এবং প্রতিদিন কতটুকু কিসমিস খাওয়া উচিত এ সকল প্রশ্নের উত্তর সহ কিসমিস সম্পর্কিত খুঁটিনাটি সকল বিষয় নিয়ে আজকের এই পোস্টে আপনাদের সাথে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব। চলুন শুরু করা যাক।
পেজ সূচিপত্র : রাতে ঘুমানোর আগে কিসমিস খেলে কি হয়
- রাতে ঘুমানোর আগে কিসমিস খেলে কি হয়
- প্রতিদিন কতটুকু কিসমিস খাওয়া উচিত
- সকালে খালি পেটে কিসমিস ভিজিয়ে খেলে কি হয়
- কিসমিস ভিজিয়ে খাওয়ার উপকারিতা
- কিসমিস ভেজানো পানি খেলে কি হয়
- শুকনো কিসমিস খেলে কি হয়
- অতিরিক্ত কিসমিস খেলে কি হয়
- কিসমিস খাওয়ার অপকারিতা ও ক্ষতিকর দিক
- ভালো মানের কিসমিস চেনার উপায়
- কিসমিস খাওয়ার কিছু টিপস শেয়ার করা হলো
- লেখকের মন্তব্য : রাতে ঘুমানোর আগে কিসমিস খেলে কি হয়
রাতে ঘুমানোর আগে কিসমিস খেলে কি হয়
আমরা প্রত্যেকেই তো কিসমিস খেতে খুব ভালোবাসি। কিসমিস একটি সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর ফল। কিসমিসে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ফাইবার, প্রোটিন, আয়রন, পটাশিয়াম, কপার, ভিটামিন সি ৬ এবং ম্যাঙ্গানিজ রয়েছে। এবার অনেকের মনে এই প্রশ্নটি থাকে যে রাতে ঘুমানোর আগে কিসমিস খেলে কি হয়? এটি শরীরের জন্য কতটুকু স্বাস্থ্যকর? তাই আজকের এই পোস্টে আমরা আপনাদের সাথে আলোচনা করব যে রাতে ঘুমানোর আগে কিসমিস খেলে কি উপকার হয়। তো চলুন জেনে নেই সে উপকারগুলো -
- ত্বক সুন্দর হয় : সুন্দর ত্বক পেতে কে না চাই। আমরা প্রত্যেকেই তো সুন্দর ত্বকের অধিকারী হতে চাই। এ ক্ষেত্রে সুন্দর ত্বক পেতে চাইলে আপনাকে নিয়মিত কিসমিস খেতে হবে। কারণ কিসমিসে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি আছে। যা আমাদের ত্বককে সুন্দর করতে সহায়তা করে। নিয়মিত কিসমিস খাওয়ার ফলে আপনার ত্বক সুন্দর হবে সাথেই ত্বক থেকে যাবতীয় দাগ দূর হবে।
- ডায়াবেটিস কে নিয়ন্ত্রণে রাখে : বর্তমান সময় বাংলাদেশের প্রায় ৭৫% মানুষই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। এর পিছনে রয়েছে নানান কারণ। তবে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে আপনি নিয়মিত কিসমিস খাওয়া শুরু করুন। নিয়মিত কিসমিস খাওয়ার ফলে সহজে আপনি আপনার ডায়াবেটিস কে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।
- রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে : কিসমিস থেকে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম পাওয়া যায়। যা উচ্চ রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে। তাই আপনি এখন থেকে নিয়মিত কিসমিস খাওয়া শুরু করুন। কিসমিস খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং শরীর সুস্থ থাকবে।
- হাড় মজবুত করে : হাড় মজবুত করতে নিয়মিত কিসমিস খেতে হবে। কেননা কিসমিসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি। যা হাড় কে মজবুত করতে সহায়তা করে।
- ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে : ক্যান্সার আক্রান্ত হওয়া থেকে বিরত রাখেই কিসমিস। কিসমিস শরীরের ফ্রি রেডিক্যাল ড্যামেজ হওয়া থেকে রক্ষা করে।
- অতিরিক্ত ওজন কমাতে : প্রতিদিন রাতে কিসমিস খেলে মেদ এবং চর্বি কমতে থাকে। ওজন কমাতে কিসমিসের ব্যবহার সব থেকে বেশি প্রচলিত। কারণ রাতে ঘুমানোর পূর্বে কিসমিস খেলে কিসমিস উপস্থিত ফাইবার দীর্ঘক্ষণ পেটকে ভরা রাখে এবং ওজন কমায়।
- দাঁতের যত্নে : দাঁতকে সুস্থ রাখতে প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর পূর্বে কিসমিস খেলে দাঁতের গোড়া শক্ত থাকে এবং দাঁতের এনামেল এর ক্ষতি থেকে বিরত থাকে।
- ঘুম ভালো হয় : যেহেতু কিসমিস মিষ্টান্ন খাবার সেক্ষেত্রে আপনি যদি রাতে ঘুমানোর আগে কিসমিস খেয়ে ঘুমান, এতে আপনার ঘুম খুবই ভালো এবং আরামদায়ক হবে। তাই চেষ্টা করবেন প্রতি রাতে ঘুমানোর আগে একটি হলেও কিসমিস খাবার। কিসমিস আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারী। কিসমিসে প্রচুর পরিমাণে শর্করা রয়েছে যা আমাদের শরীরের শক্তি যোগায়।
- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে : আপনার শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম? বারবার বিভিন্ন রোগবালাই দ্বারা আক্রান্ত হয়ে পড়েন? তাহলে আর চিন্তা নেই বন্ধুরা, এখন থেকে আপনি চাইলে কিসমিস খাওয়ার মাধ্যমে আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করতে পারবেন। কারণ কিসমিস থেকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি পাওয়া যায়। যা শরীরের জন্য খুবই উপকারী। এই ভিটামিন সি আপনার শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করে। তাই এখন থেকে ঘুমানোর আগে নিয়মিত একটি অথবা দুটি কিসমিস খাবেন।
- হজম শক্তি বৃদ্ধি করতে : কিসমিস যেহেতু অধিক ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার। তাই প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর পূর্বে কিসমিস খেলে এতে হজম শক্তি বৃদ্ধি করে।
- মানসিক সমস্যার সমাধানে : এছাড়াও কিসমিসে উপস্থিত বোরন মানসিক সমস্যা থেকেও পরিত্রাণ দেয়।
প্রতিদিন কতটুকু কিসমিস খাওয়া উচিত
প্রতিদিন কতটুকু কিসমিস খাওয়া উচিত প্রশ্নটা অনেকেই করে থাকেন। যে জিনিসের অনেক বেশি উপকারিতা রয়েছে তা অতিরিক্ত গ্রহণের ফলে আমাদের শরীরের উপর নেতিবাচক ও প্রভাব ফেলতে পারে। এজন্য আমাদেরকে জানতে হবে যে প্রতিদিন কতটুকু কিসমিস খাওয়া উচিত। সাধারণত, একজন সুস্থ ব্যক্তির জন্য প্রতিদিন ১/৪ কাপ (৪০-৫০ গ্রাম) কিসমিস খাওয়া স্বাস্থ্যকর বলে বিবেচিত হয়। এটি আপনাকে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি সরবরাহ করবে। কেননা, কিসমিসের মধ্যে রয়েছে -
- ক্যালোরি : ১২০
- ফাইবার : ৩ গ্রাম
- পটাশিয়াম : ২৩৫ মিলিগ্রাম
- আইরন : ১.৩ মিলিগ্রাম
- ভিটামিন বি৬ : ০.১ মিলিগ্রাম
- ম্যাঙ্গানিজ : ০.৩ মিলিগ্রাম
সকালে খালি পেটে কিসমিস ভিজিয়ে খেলে কি হয়
সকালে খালি পেটে কিসমিস ভিজিয়ে খেলে আপনার শরীরের জন্য অনেক উপকার হয়। কিসমিস শরীরের আয়রনের কমতি দূর করে এবং রক্তের কণিকার পরিমাণ বাড়ায়। কিসমিস ভেজানো পানি আমাদের শরীরের রক্ত পরিষ্কার করে এবং লিভার ও কিডনির কাজ উন্নত করে। কিসমিস হার্ট, চুল, চোখ, দাত ও ত্বকের জন্য ভালো। কিসমিস ডায়াবেটিস, জ্বর, যৌন স্বাস্থ্য প্রতিরোধে সাহায্য করে। কিসমিসে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এবং মিনারেলস থাকে যা শরীরের পুষ্টি বৃদ্ধি করে।
আরো পড়ুন :
কিসমিস শুকনো খাওয়ার পরিবর্তে আপনি যদি কিসমিস ভিজিয়ে খান তাহলে আপনি উপকার বেশি পাবেন। কিসমিস ভেজানো পানি আমাদের শরীরের রক্ত পরিষ্কার করতে সহযোগিতা করে থাকে। এছাড়াও কিসমিস শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ফাইটোকেমিক্যাল সমৃদ্ধ। কিসমিস ভিজানোর জন্য রাতের সময় দুই কাপ পানি নিয়ে তাতে ১৫০ গ্রাম কিসমিস মেশানো। সকালে ঘুম থেকে উঠে কিসমিস ছেকে নিয়ে পানিটা হালকা গরম করে খেয়ে নিন। এরপর কমপক্ষে ৩০ মিনিট পরে ভেজানো কিসমিস গুলো খেতে পারেন।
কিসমিস ভিজিয়ে খাওয়ার উপকারিতা
আমাদের শরীরের উপকারে আসে এরকম অনেক শুকনো ফল আমরা খেয়ে থাকি। যেমন - খেজুর, বাদাম, কিসমিস ইত্যাদি। এসব শুকনো ফলের মধ্যে কিসমিসে রয়েছে অনেক পুষ্টিগুণ। কিসমিসের পুষ্টিগুণ আরো ভালো পাওয়া যায় যদি পানিতে ভিজে রেখে নির্দিষ্ট সময় পর খাওয়া যায়। রাতভর পানিতে ভিজিয়ে রাখলে কিসমিসের সাথে থাকা বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান পানির সঙ্গে মিশে যায়। কিসমিস ভেজানো পানি পান করলে আমাদের শরীর আরো সতেজ হয়। এখন আমি আপনাদের সামনে কিসমিস ভিজিয়ে খাওয়ার উপকারিতা নিয়ে আলোচনা করব -
- পুষ্টি বিজ্ঞানীগণ কিসমিসের মধ্যে যেসব পুষ্টি উপাদান পেয়েছে তা হল : আয়রন, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, সেলেনিয়াম, জিংক, ভিটামিন-সি, ক্যালসিয়াম ও বোরন।
- রক্তশূন্যতা কমাতে কিসমিস যথেষ্ট উপকারী। নিয়মিত কিসমিস খেলে কিসমিসে থাকা আইরন রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বৃদ্ধি করে এবং রক্তের লাল কণিকা পরিমাণ বৃদ্ধি করে।
- শুকনো কিসমিস খাওয়ার চেয়ে কিসমিস ভিজিয়ে খেলে বেশি উপকার পাওয়া যায়। কিসমিস ভেজানো পানি শরীরের রক্ত পরিষ্কার করে।
- আমাদের শরীরের কোষ্ঠকাঠিন্য, এসিডিটি দূর হবে নিয়মিত কিসমিস খেলে। হজম শক্তি বৃদ্ধিতে কিসমিস খাওয়া খুবই উপকারী।
- কিসমিস ভিজানো পানি শরীরের জন্য খুবই উপকারী। কিসমিসের পানি লিভার পরিষ্কার করে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে কিসমিস ভেজানো পানি শরীরের প্রবেশের সাথে সাথে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়া শুরু হয়। যার ফলে রক্ত পরিশোধিত হতে শুরু করে পাশাপাশি কিডনিও ভালো থাকে।
- নিয়মিত কিসমিস খেলে আমাদের চুল ও ত্বককে উজ্জ্বল রাখতে সহায়তা করে।
- কিসমিসে থাকা ক্যালসিয়াম দাঁত ও হাড়ের গঠন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে এবং হারকে শক্তিশালী করে।
- আপনি যদি শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে চান তাহলে নিয়মিত কিসমিস ও তার পানি খান। কেননা এর মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কে বৃদ্ধি করবে।
- কিসমিসের মধ্যে রয়েছে পলিফেনলস এবং অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল ও আন্টি ইনফেমেটরি উৎপাদন যা কাঁটা ছেড়া ও ক্ষতস্থান হতে ইনফেকশন হওয়ার ঝুঁকি কমিয়ে দেয়।
- কিসমিসে প্রচুর পরিমাণে গ্লুকোজ থাকে। তাই এটি ওজন বাড়াতে সহায়িকা পালন করে। সঠিক পরিমাণের ওজন বাড়াতে চান তাহলে নিয়মিত কিসমিস খান।
কিসমিস ভেজানো পানি খেলে কি হয়
কিসমিস ভিজিয়ে খাওয়ার উপকারিতা আমরা দেখেছি। কিন্তু এটি একটি মজার বিষয় যে, কিসমিস যে পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয়, সেই পানিও অনেক বেশি পুষ্টি সমৃদ্ধ। এই পানি পান করলেও আমরা অনেক উপকৃত হতে পারব। কিসমিস ভেজানো পানি খেলে হজম শক্তি বাড়ে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয় এবং শরীরের শক্তি যোগায়। এছাড়াও এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে। তাই কিসমিস ভেজানো পানি ফেলে না দিয়ে পান করাই ভালো হবে। চলুন তাহলে দেখে নিই কিসমিস ভেজানো পানি খেলে আমরা কি কি উপকার পেতে পারি।
- শরীরে উচ্চমাত্রায় রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।
- অতিরিক্ত ওজন কমাতে সাহায্য করে।
- লিভারের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
- কিসমিস ভেজানো পানি খেলে আমাদের শরীরে এনার্জি লেভেল বৃদ্ধি পায়।
- সকালবেলা কিসমিস ভেজানো পানি খেলে সারা দিনের কাজকর্মে ক্লান্তি ভাব কম আসে।
শুকনো কিসমিস খেলে কি হয়
কিসমিস খাওয়ার এতক্ষণে কতই না উপকারিতা দেখলাম। এতক্ষণে বিভিন্ন ভাবে বা অন্য কিছুর সহযোগে কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা দেখলাম। আমরা অনেকেই শুধুমাত্র শুকনা কিসমিস খেয়ে থাকি। এটা আমরা অনেকে পছন্দও করে থাকি। এবার তাদের জন্য বলব এই শুকনো কিসমিস খেলে আপনি কি কি উপকার পেতে পারেন, যদিও এটি এমনিতেও অনেক বেশি পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ। কিসমিসে পর্যাপ্ত পরিমাণে পটাশিয়াম থাকে যা আমাদের হৃদযন্ত্র কে সুস্থ রাখে।
আরো পড়ুন :
শুকনো কিসমিস খাওয়ার ফলে এটি আমাদের শরীর থেকে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের দূর করে, ফলে শরীরের ওজন কমাতে সহায়তা করে। এতে কার্বোহাইড্রেট থাকে যা আমাদের শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। চুল ও ত্বকের যত্নে শুকনা কিসমিস অনেক বেশি উপকারী। শুকনা কিসমিস খাওয়ার ফলে শরীরে রক্তস্বল্পতা দূর হয়। বিশেষ করে মহিলারা এই সমস্যাটা তে বেশি পড়ে থাকে। তাই বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা মহিলাদের রক্তস্বল্পতা দূর করার জন্য কিসমিস খাওয়ার উপদেশ দেন। তাই আজ থেকেই শুকনা কিসমিস খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন।
অতিরিক্ত কিসমিস খেলে কি হয়
কিসমিসে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, প্রোটিন, আইরন, পটাশিয়াম, কপার এবং ভিটামিন - বি৬ ইত্যাদি পুষ্টি উপাদান রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে সারারাত পানিতে ভিজিয়ে সকালে এটি খেলে অনেক উপকার পাওয়া যায়। তবে তা খেতে হবে পরিমান মত। পুষ্টিবিদদের মতে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ গ্রাম কিসমিস খাওয়া যায় তাহলে এটি শরীরের জন্য খুবই উপকারী। তবে এর বেশি পরিমাণে খেলে তা ক্ষতির কারণ হতে পারে। আসুন জেনে নেই কিসমিস বেশি খেলে কি কি ধরনের ক্ষতি হতে পারে সেই সম্পর্কে।
- রক্তের শর্করার পরিমাণ বৃদ্ধি : কিসমিসে চিনি ও ক্যালরির পরিমাণ অনেক বেশি তাই এটি খেলে রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। আর রক্তের শর্করার পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে অনেক সময় উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই প্রতিদিন পরিমাণ মতো কিসমিস খেতে হবে।
- ওজন বৃদ্ধি পাওয়া : কিসমিস একটি উচ্চ ক্যালরি সম্পন্ন খাবার। যাদের ওজন কম তারা অনেক সময় কিসমিস খেয়ে থাকেন। তবে অতিরিক্ত পরিমাণের কিসমিস খাওয়ার ফলে আপনার ওজন দ্রুত বেড়ে যাবে।
- ত্বকে এলার্জির সমস্যা : এক এক মানুষের এক এক খাবারে এলার্জি থাকতে পারে। আপনারা অনেকেই রয়েছেন যাদের কিসমিস খেলে এলার্জির সমস্যা বা লক্ষণ দেখা দেয়। এরকম সমস্যা দেখা দিলে অবশ্যই কিসমিস খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
- পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা : কিসমিসে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার বা আঁশ থাকে। এটি পরিপাকতন্ত্র সচল রাখতে খুবই উপকারী। তবে অতিরিক্ত কিসমিস খেলে বদ হজমের সমস্যা দেখা দেয়। এছাড়া পেট ফাপা মত সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই নিয়মিত পরিবারের কিসমিস খেতে হবে।
কিসমিস খাওয়ার অপকারিতা ও ক্ষতিকর দিক
উপরে আমরা এতক্ষণ দেখলাম কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা এবং রাতে ঘুমানোর আগে কিসমিস খেলে কি হয় সেই সম্পর্কে। তবে এবার আমরা জানব কিসমিসের অপকারিতা সম্পর্কে। কিসমিস স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। তবে আপনি যদি অতিরিক্ত পরিমাণে কিসমিস খাওয়া শুরু করেন তাহলে আপনার শরীরে এটি ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলবে। কিসমিস খেয়ে উপকারিতা গ্রহণ করতে চাইলে আমাদের অবশ্যই এসব এর ক্ষতিকারক প্রভাব সম্পর্কে অবগত থাকতে হবে। তবে আমরা উচ্চমানের উপকারিতা পেতে পারি। চলুন তাহলে আমরা দেখে নেই এর অপকারিতা ও ক্ষতিকর দিকগুলো কি কি -
- মাত্রাতিরিক্ত খাওয়ার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি করে।
- বেশি কিসমিস খাওয়ার ফলে পেট ব্যথা, গ্যাস, পেট ফাঁপা ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে।
- কিসমিসে অনেক শর্করা থাকে। অতিরিক্ত শর্করা দাঁতের জন্য ক্ষতিকর।
- অনেক মানুষ আছে যাদের কিসমিস খাওয়ার ফলে এলার্জিজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে।
- কিছু কিছু কিসমিসে সোডিয়াম যোগ করা থাকে, যা রক্তচাপ বাড়াতে সাহায্য করে।
- কিসমিসে প্রচুর পরিমাণে শর্করা ও কার্বোহাইড্রেট থাকে। যা অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে শরীরের ওজন বৃদ্ধি করে।
- কিসমিসে প্রচুর পরিমাণে চিনি থাকে, তাই ডায়াবেটিস রোগীদের বা যাদের রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রয়োজন তাদের সীমিত পরিমানে খাওয়া উচিত।
ভালো মানের কিসমিস চেনার উপায়
ভালো মানের কিসমিস চেনার জন্য কিছু বিষয় লক্ষ্য রাখতে পারেন। কিসমিস বাছাই করার সময় এর রং, আকার, গন্ধ এবং স্বাদ খেয়াল করুন। ভালো কিসমিসের রং সাধারণত গাঢ় সোনালী বা গাঢ় বাদামি হয়ে থাকে। এগুলো আকারে বড় এবং মসৃণ হবে। এছাড়া, কিসমিসের একটি মিষ্টি ঘ্রাণ থাকবে এবং স্বাদও মিষ্টি হবে। কিসমিসে কোনরকম ফাঙ্গাস বা পোকা আছে কিনা, তাও দেখে নিতে পারেন। ভালো মানের কিসমিস চেনার উপায় গুলো নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো -
- রং : ভালো কিসমিসের রং গাঢ় সোনালী বা গাঢ় বাদামি হয়ে থাকে। যদি কিসমিসের রং কালচে বা বিবর্ণ হয়, তবে সেটি পুরনো বা নিম্নমানের হতে পারে।
- আকার : ভালো মানের কিসমিস আকারে বড় এবং মসৃণ হবে। ছোট, কুঁচকানো বা শক্ত কিসমিস এড়িয়ে চলাই ভালো।
- গন্ধ : কিসমিসের একটি মিষ্টি ঘ্রাণ থাকবে। যদি কিসমিসের মধ্যে কোনরকম দুর্গন্ধ থাকে, তবে সেটি ভালো নাও হতে পারে।
- স্বাদ : ভালো কিসমিসের স্বাদ মিষ্টি হবে। যদি কিসমিসের স্বাদ তেতো বা অন্যরকম লাগে, তবে সেটি এড়িয়ে যাওয়াই ভালো।
- অন্যান্য বিষয় : কিসমিসের গায়ে কোনরকম ফাঙ্গাস বা পোকা আছে কিনা, তা ভালোভাবে দেখে নিন। এছাড়াও, কিসমিসের গায়ে অতিরিক্ত ময়লা বা ধুলোবালি আছে কিনা, তাও খেয়াল করুন।
কিসমিস খাওয়ার কিছু টিপস শেয়ার করা হলো
আপনারা ঘুমানোর আগে যদি অল্প পরিমাণে কিসমিস খান। তাহলে আপনি অন্যান্য রোগ ব্যাধি থেকে মুক্তি পাবেন এবং উপকারিতা পাবেন। কমপক্ষে ঘুমানোর আগে তিন থেকে চারটি কিসমিস খাওয়া আমাদের উচিত।
- এবং আপনি যদি কিসমিসের সঠিক উপকারিতা পেতে চান তাহলে ঘুমাতে যাওয়ার আধাঘন্টা আগে আপনি কিসমিস খাবেন। কারণ ঘুমাতে যাওয়ার আগে আপনি যে ফলমূল খান এবং যা কিছুই পুষ্টিকর খাবার খান সেটি অনেক উপকারিতা দেয় আমাদের শরীরে।
- আমাদের প্রতিটি মানুষের পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা উচিত। কিসমিস খাওয়ার পরে আপনি পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করে নেবেন। তাহলে এতে আরো আমাদের শরীরে উপকারিতা পেতে সাহায্য করবে।
- আপনি রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে কিসমিসের সাথে অন্যান্য উপকারিতা খাবার খেতে পারেন এবং পুষ্টি সম্পন্ন ও ক্যালরি সম্পন্ন খাবার। যেমন : দুধ, ঘি, মাখন, বাদাম, দই এগুলো খেতে পারেন।
লেখকের মন্তব্য : রাতে ঘুমানোর আগে কিসমিস খেলে কি হয়
আজকের এই আর্টিকেলটিতে আমি কিসমিস সংক্রান্ত সকল নির্ভুল তথ্য আপনাদেরকে জানানোর চেষ্টা করেছি। আশা করছি আমার এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনারা উপকৃত হবেন। আজকের আর্টিকেলটি পড়ে যদি আপনারা উপকৃত হন তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন এবং আপনার পরিচিত বন্ধু বান্ধবদের সাথে শেয়ার করে দিবেন। যাতে তারাও পড়ে উপকৃত হতে পারে।
আপনি যদি এরকম আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সম্পর্কে জানতে চান তাহলে নিয়মিত আমার www. naxoma.com ওয়েবসাইটটি ভিজিট করবেন। এতক্ষণ আমাদের সাথে থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আজকে এখানেই শেষ করছি। আল্লাহ হাফেজ 🥰
নাক্ষোমা এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url