*/

চুলের যত্নে জবা ফুলের ব্যবহার ঘরোয়া পদ্ধতি

চুলের যত্নে জবা ফুলের ব্যবহার ঘরোয়া পদ্ধতিতে জানুন। এই আর্টিকেলে আপনি জানতে পারবেন জবা ফুলের তেল ও হেয়ার প্যাকের চুলের উপকারিতা, জবা ফুলে থাকা পুষ্টিগুণ, চুলের স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার ঘরোয়া উপায় এবং নিয়মিত ব্যবহারে কিভাবে চুল ফোর্সা, মসৃণ ও ঘন হয়।

চুলের যত্ন আজকাল সকলেরই এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সুন্দর, নরম, ঘন ও উজ্জ্বল চুল পেতে আমরা নানা পদ্ধতি অনুসরণ করি, কিন্তু প্রাকৃতিক উপায়ে চুলের যত্ন নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ এবং কার্যকর। এর মধ্যে জবা ফুল একটি অত্যন্ত উপকারী উপাদান। জবা ফুলের তেল ও হেয়ার প্যাক নিয়মিত ব্যবহার করলে চুলের বৃদ্ধি বৃদ্ধি পায়, চুলের ভাঙা ও ড্যামেজ কমে এবং চুল হয় স্বাস্থ্যকর ও ঘন।

পেজ সূচিপত্র ঃ চুলের যত্নে জবা ফুলের ব্যবহার

  • চুলের যত্নে জবা ফুলের ব্যবহার  
  • চুলের যত্নে জবা ফুলের তেলের উপকারিতা 
  • চুলের যত্নে জবা ফুলের উপকারিতা 
  • জবা ফুলে কি কি পুষ্টিগুণ রয়েছে  
  • চুলের যত্নের জবা ফুলের হেয়ার প্যাক 
  • চুলের যত্নে জবা ফুলের তেল বানানোর উপায়
  • লেখকের শেষ কথা : চুলের যত্নে জবা ফুলের ব্যবহার

চুলের যত্নে জবা ফুলের ব্যবহার 

চুলের যত্নে জবা ফুলের ব্যবহার। বর্তমান সময়ে বাজারে চুলের যত্নের জন্য অসংখ্য তেল পাওয়া যায়। বিভিন্ন কোম্পানি ভিন্ন ভিন্ন উপাদান ব্যবহার করে নানা ধরনের তেল তৈরি করলেও সবগুলোর ফল আমরা কিন্তু পাই না। কারণ মূল সমস্যা হচ্ছে—আমাদের বেশিরভাগ মানুষই নিয়মিত চুলের যত্ন ঠিকভাবে নেই না। এই অবহেলার কারণেই চুল পড়া, আগেভাগে চুল সাদা হওয়া, রুক্ষ হয়ে যাওয়া বা খুশকির মতো সাধারণ সমস্যা প্রায় সবার ক্ষেত্রেই দেখা দেয়। তাই যেই প্রোডাক্টই ব্যবহার করুন না কেন, নিয়মিত পরিচর্যার বিকল্প নেই। আর এই নিয়মিত যত্নে সহজ, সুলভ এবং কার্যকর একটি উপাদান হলো জবা ফুল

জবা ফুলে এমন কিছু প্রাকৃতিক গুণ আছে যা চুলের ঘনত্ব বাড়াতে, পুষ্টি জোগাতে, রুক্ষতা কমাতে এবং খুশকি দূর করতে দারুণ কার্যকর। চুলের যেকোনো সমস্যায় এটি সহজেই ঘরোয়া সমাধান হিসেবে ব্যবহার করা যায়। প্রথমে ৭–৮টি জবা ফুল নিয়ে রস বের করে বা পেস্ট তৈরি করে টক দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে নিন। গোসলের ৩০–৪০ মিনিট আগে এই মিশ্রণ চুলে লাগিয়ে ২৫–৩০ মিনিট পর শ্যাম্পু করে ফেললে চুল হবে নরম, ঘন এবং শক্ত। চাইলে এ রস আপনার ব্যবহৃত তেলের সঙ্গে মিশিয়েও ব্যবহার করতে পারবেন, এতে চুলের জেল্লা আরও বৃদ্ধি পায়।

যাদের চুল খুব রুক্ষ, তারা ৮–১০টি শুকনো জবা পাপড়ি কাঠবাদাম তেলের সঙ্গে ১০–১২ দিন ভিজিয়ে রেখে রোদে গরম করে ব্যবহার করতে পারেন। ১৫–২০ মিনিট লাগিয়ে রেখে শ্যাম্পু করলে নিয়মিত ব্যবহারে চুলের রুক্ষতা দূর হয়ে নরম ও কোমল হবে। অন্যদিকে, চুলের সবচেয়ে বিরক্তিকর সমস্যা—খুশকি দূর করতে জবা ফুলের শুকনো পাপড়ি কালোজিরা বা তিলের তেলে আধা ঘণ্টা ভিজিয়ে চুলে লাগালে দ্রুতই ভালো ফল পাওয়া যায়। চুলের পুষ্টি ধরে রাখতে জবা ফুলের পেস্টের সাথে নারকেল তেল মিশিয়ে ১০–১২ ঘণ্টা রেখে চুলে লাগালে শিকড় শক্ত হয় এবং চুল হয় আরও স্বাস্থ্যবান। 

আর যারা চুল পড়া নিয়ে চিন্তিত, তারা জবা ফুলের পেস্টে ২–৩ চা চামচ টক দই মিশিয়ে ব্যবহার করলে চুল পড়া অনেকটাই কমে যায়। চাইলে জবা ফুলের সঙ্গে নিমপাতা, অ্যালোভেরা ও গোলাপ জল মিশিয়ে বিশেষ হেয়ার প্যাক তৈরি করেও চুলের সব ধরনের সমস্যা সমাধান করতে পারেন। প্রাকৃতিক যত্নে জবা ফুল একটি অসাধারণ উপাদান। নিয়মিত ব্যবহার করলে চুলের ঘনত্ব, পুষ্টি, নরমত্ব এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য অনেকটাই উন্নত হয়। তাই বাজারি কেমিক্যালের ওপর নির্ভর না করে জবা ফুলের এই সহজ এবং কার্যকর ঘরোয়া যত্ন আপনি নিশ্চিন্তে ব্যবহার করতে পারেন।

চুলের যত্নে জবা ফুলের তেলের উপকারিতা 

জবা ফুলের নানা ধরনের হেয়ারপ্যাক যেমন চুলের জন্য উপকারী, তেমনি জবা ফুলের তেলও সমান কার্যকর। বিশেষ করে যারা ব্যস্ত জীবনে প্রতিদিন এতগুলো প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে পারেন না, তাদের জন্য জবা ফুলের তেলই হতে পারে সবচেয়ে সহজ সমাধান। জবা ফুলের পাপড়ি এবং পাতা—দুটিতেই এমন কিছু প্রাকৃতিক উপাদান আছে যা চুলের নানা সমস্যা দূর করতে দারুণভাবে সাহায্য করে।

নিয়মিত জবা ফুলের তেল ব্যবহার করলে চুল পড়া কমে, শিকড় হয় আরও মজবুত, খুশকি দূর হয় এবং চুলের ঘনত্ব বাড়ে। পাশাপাশি এটি চুলকে স্বাভাবিকভাবে উজ্জ্বল রাখে এবং মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে চুলের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে। তাই খুব বেশি ঝামেলা ছাড়া চুলের সার্বিক যত্ন নিতে চাইলে জবা ফুলের তেল হতে পারে একটি সহজ, কার্যকর এবং সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক সমাধান।

চুলের যত্নে জবা ফুলের উপকারিতা 

আপনারা যারা এতক্ষণ ধরে এই আর্টিকেলটি পড়েছেন, নিশ্চয়ই বোঝে গেছেন যে চুলের যত্নে জবা ফুল কতটা গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রাকৃতিক উপাদান। তবুও আপনাদের সুবিধার জন্য আমরা আবারও জবা ফুলের উপকারিতাগুলো বিস্তারিতভাবে আলোচনা করছি। প্রাচীনকাল থেকেই চুলের সৌন্দর্য, ঘনত্ব ও স্বাস্থ্য রক্ষা করতে জবা ফুল ব্যবহৃত হয়ে এসেছে। আধুনিক যুগে বাজারে প্রচুর দামী তেল পাওয়া গেলেও জবা ফুলের প্রাকৃতিক গুণ একেবারেই আলাদা। আসুন দেখে নেওয়া যাক চুলের জন্য জবা ফুল কেন এত উপকারী—

  • ক্যারাটিন উৎপাদন বাড়ায় ঃ জবা ফুলে থাকা অ্যামিনো এসিড চুলের ক্যারাটিন প্রোটিনের উৎপাদনকে উদ্দীপিত করে। এই প্রোটিনই চুলের জেল্লা, শক্তি ও স্বাস্থ্য ধরে রাখে।
  • আগেভাগে চুল পাকা কমায় ঃ নিয়মিত জবা ফুল ব্যবহার স্ক্যাল্পকে পুষ্টি দেয়, ফলে অকালে চুল সাদা হয়ে যাওয়ার প্রবণতা ধীরে ধীরে কমে যায়।
  • চুল দ্রুত লম্বা হতে সাহায্য করে ঃ উল্লেখিত নিয়মে নিয়মিত জবা ফুল ব্যবহার করলে চুলের গ্রোথ অনেক দ্রুত বাড়ে এবং পাতলা চুল ঘন হয়।
  • চুলের গোড়া মজবুত করে ঃ জবা ফুলের প্রাকৃতিক গুণ চুলের মূলকে শক্ত করে, ফলে চুল ঝরে পড়া কমে এবং নতুন চুল গজানোর প্রক্রিয়া সক্রিয় হয়।
  • ঘনত্ব বাড়ায় ঃ চুলের ঘনত্ব বাড়াতে জবা ফুল বিশেষভাবে কার্যকর। নিয়মিত ব্যবহারে ফাঁকা-ফাঁকা স্ক্যাল্প ভরাট হতে শুরু করে।
  • রুক্ষ চুলকে সিল্কি করে ঃ জবা ফুলের ময়েশ্চারাইজিং ক্ষমতা চুলের রুক্ষতা দূর করে, ফলে চুল হয় নরম, মসৃণ এবং সিল্কি।
  • মাথার ত্বকে শীতলতা দেয় ঃ জবা তেল মাথায় দিয়ে ঘুমালে স্ক্যাল্পে আরাম লাগে এবং রাতে ঘুম ভালো হয়। এটি মনকেও প্রশান্ত করে।
  • শরীরকে সতেজ রাখে ঃ জবা ফুলের কিছু প্রাকৃতিক গুণ শরীরে সজীবতা আনে এবং দৈহিক শক্তি ধরে রাখতে সহায়তা করে (ঐতিহ্যগত ব্যবহারে এ বিশ্বাস প্রচলিত)।
  • জট বাধা কমায় ঃ যাদের চুলে সহজেই জট বেঁধে যায়, তাদের জন্য জবা ফুল অত্যন্ত উপকারী। এটি চুল নরম করে জট খুলতে সহজ করে তোলে।
  • দ্রুত লম্বা চুল পাওয়ার সহায়ক ঃ যারা লম্বা চুল চান কিন্তু চুল বাড়ে না, তারা যদি নিয়মিত জবা ফুল দিয়ে তৈরি প্যাক ও জবা তেল ব্যবহার করেন, তাহলে ১–২ মাসের মধ্যে চুল লম্বা হওয়ার দৃশ্যমান পার্থক্য পাওয়া সম্ভব।

জবা ফুলে কি কি পুষ্টিগুণ রয়েছে 

  • ক্যালোরি : ক্যালোরি আমাদের শরীরে শক্তির প্রধান জ্বালানি হিসেবে কাজ করে। প্রতিদিনের সমস্ত শারীরিক কার্যক্রম—হাঁটা, কাজ করা, ব্যায়াম, এমনকি শ্বাস নেওয়ার মতো কাজেও ক্যালোরি শক্তি সরবরাহ করে।
  • ফ্যাট : সঠিক পরিমাণে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট গ্রহণ হৃদপিণ্ডের জন্য উপকারী। এটি কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে, রক্তচাপ কমায় এবং হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি হ্রাস করতে ভূমিকা রাখে।
  • সোডিয়াম : পরিমিত সোডিয়াম শরীরে তরল ভারসাম্য বজায় রাখে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং স্ট্রোক বা কিডনি ক্ষতির সম্ভাবনা কমাতে সহায়ক। অতিরিক্ত সোডিয়াম ক্ষতিকর হলেও সঠিক মাত্রায় এটি প্রয়োজনীয়।
  • পটাসিয়াম : পটাসিয়াম হৃদযন্ত্র ও পেশির কাজকে স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। এটি রক্তচাপ কমাতে ভূমিকা রাখে, স্ট্রোকের ঝুঁকি হ্রাস করে এবং হাড়ের শক্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি কিডনিতে পাথর গঠনের সম্ভাবনা কমায়।
  • কার্বোহাইড্রেট : কার্বোহাইড্রেট হলো শরীরের প্রধান শক্তির উৎস। এগুলো হজম হয়ে গ্লুকোজে রূপান্তরিত হয় এবং রক্তে মিশে শরীরকে তাৎক্ষণিক শক্তি প্রদান করে। দৈনন্দিন কাজের জন্য এটি অপরিহার্য।
  • প্রোটিন : প্রোটিন ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, পেশী গঠনে সহায়তা করে এবং শরীরকে শক্তিশালী রাখে। এটি হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া রক্তচাপ কমাতে এবং ওজন কমানোর পর তা ধরে রাখতে প্রোটিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
  • ভিটামিন এ : ভিটামিন এ ত্বক, চুল, চোখ এবং হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে, ব্রণ কমাতে সহায়তা করে এবং শরীরের বিভিন্ন কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে।
  • ভিটামিন সি : ভিটামিন সি শরীরের টিস্যু বৃদ্ধি, মেরামত এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এটি কোলাজেন তৈরিতে সাহায্য করে, ক্ষত সারাতে সহায়তা করে, আয়রন শোষণ সহজ করে এবং দাঁত ও মাড়ির সুস্থতা বজায় রাখে।
  • আয়রন : শরীরে শক্তি উৎপাদন, মনোযোগ ধরে রাখা, হজম প্রক্রিয়া সচল রাখা—এসবই আয়রনের মাধ্যমে সম্ভব হয়। আয়রন রক্তে হিমোগ্লোবিন তৈরি করে এবং শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণসহ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

চুলের যত্নের জবা ফুলের হেয়ার প্যাক 

বর্তমান সময়ে চুলের যত্ন নিয়ে প্রায় সারা বছরই আমাদের কোনো না কোনো সমস্যায় পড়তে হয়। কখনো খুশকি, কখনো রুক্ষতা, কখনো অতিরিক্ত চুল পড়া আবার কখনো চুলের ঘনত্ব কমে যাওয়া—এসব যেন সবারই পরিচিত সমস্যা। নিয়মিত যত্নের অভাবে ধীরে ধীরে চুল এতটাই দুর্বল হয়ে পড়ে যে একসময় টাক পড়ার মতো বিব্রতকর পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হতে পারে। তাই এসব সমস্যা শুরু হওয়ার আগেই প্রাকৃতিক উপায়ে চুলের যত্ন নেওয়া খুবই জরুরি। আর এই যত্নে জবা ফুলের তৈরি হেয়ার প্যাক হতে পারে এক অসাধারণ সমাধান। জবা ফুলের হেয়ার প্যাকসমূহ - 

  • আমলকি ও জবা ফুলের হেয়ার প্যাক ঃ ৩–৪ চা চামচ আমলকি পাউডারের সঙ্গে ৭–৮টি জবা পাতার বাটা পেস্ট ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি চুলে লাগিয়ে ২৫–৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। চাইলে আমলকি পাউডারের পরিবর্তে আমলকির রসও ব্যবহার করা যাবে। এই প্যাকটি সপ্তাহে ৪–৫ বার ব্যবহার করলে চুলের গোড়া শক্ত হবে এবং চুল হবে আরও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল।

  • জবা ফুল ও পানি ঃ প্রথমে ১০টি জবা ফুল ও পাতা নিন। এগুলো পানিতে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে হাত দিয়ে চটকে নিন। এরপর সেই পানিসহ পেস্ট চুলের গোড়া থেকে ডগা পর্যন্ত লাগান। ২০–২৫ মিনিট পর শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন (মেয়েরা চাইলে কন্ডিশনার ব্যবহার করতে পারেন)। নিয়মিত ব্যবহার করলে চুল পড়া কমবে, চুল কালো হবে এবং স্বাভাবিকভাবেই সিল্কি হয়ে উঠবে।

  • জবা ফুল, দুধ ও অলিভ অয়েল হেয়ার প্যাক ঃ ৫–৭টি জবা ফুল ১২ ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। ফুলগুলো বেটে ৪–৫ চা চামচ দুধ এবং ২ চা চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। ২৫–৩০ মিনিট চুলে লাগিয়ে রেখে ভালোভাবে শ্যাম্পু করুন। মাসে ৪–৫ বার ব্যবহার করলে চুলের প্রায় সব ধরনের সমস্যায় উপকার পাওয়া যাবে।

  • জবা পাতা, ফুল, মধু ও টক দই প্যাক ঃ ৮–১০টি জবা ফুল ও পাতা বেটে নিন। এরপর ৩–৪ চা চামচ মধু এবং একই পরিমাণ টক দই মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। ৩০–৪০ মিনিট চুলে লাগিয়ে রেখে শ্যাম্পু করুন। এই প্যাক চুলকে করে মোলায়েম ও কোমল, পাশাপাশি চুল পড়াও উল্লেখযোগ্যভাবে কমায়।

  • মেহেদী পাতা, জবা পাতা ও লেবুর রস ঃ যাদের খুশকি সমস্যা খুব বেশি, তারা মেহেদী পাতা, জবা পাতা এবং সামান্য লেবুর রস দিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করে সপ্তাহে দুইবার ব্যবহার করুন। নিয়মিত ব্যবহারে খুশকি সম্পূর্ণভাবে দূর হয়ে যাবে।

চুলের যত্নে জবা ফুলের তেল বানানোর উপায়

বর্তমান সময়ের বাজারে নানা ধরনের কৃত্রিম চুলের তেল পাওয়া যায়। ব্যস্ত জীবনে যারা প্রতিদিন চুলের যত্ন নেওয়ার মতো সময় বের করতে পারেন না, তারা সাধারণত এসব তৈরিকৃত তেলের ওপরই নির্ভর করেন। কিন্তু আধুনিকতার ছোঁয়ায় আমরা ধীরে ধীরে ভুলে গেছি ঘরে তৈরি প্রাকৃতিক তেলের আসল উপকারিতা। ভাবুন তো, নিজের হাতে বানানো জবা ফুলের তেল মাথায় ব্যবহার করছেন—এটা যেমন আনন্দের, তেমনি আরও বেশি উপকারী ও নিরাপদ। জবা ফুলের তেল কেন ব্যবহার করবেন?

ঘরে তৈরি জবা ফুলের তেল ১০০% প্রাকৃতিক হওয়ায় এতে থাকে না কোনো কেমিক্যাল বা ক্ষতিকর উপাদান। নিয়মিত ব্যবহার করলে এটি চুল পড়া কমায়, চুল লম্বা করে, ঘনত্ব বাড়ায় এবং মাথার ত্বককে পুষ্টি জোগায়।

যে উপকরণগুলো লাগবে—

  • ৮–১০টি জবা ফুল

  • ৬–৭টি জবা ফুলের পাতা

  • ১ কাপ নারিকেল তেল

  • সামান্য পানি

  • একটি পরিষ্কার পাত্র

প্রস্তুত প্রণালি—

প্রথমে ফুল ও পাতাগুলো পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিন। এরপর এগুলো ব্লেন্ডারে সামান্য পানি দিয়ে মিহি করে ব্লেন্ড করুন। অন্য একটি পাত্রে নারিকেল তেল গরম করতে দিন এবং যখন তেল হালকা গরম হবে, তখন ব্লেন্ড করা জবা ফুল–পাতার মিশ্রণটি তেলের সঙ্গে দিয়ে দিন।

চুলায় মাঝারি আঁচে মিশ্রণটি টগবগে করে ফুটতে দিন। ধীরে ধীরে দেখবেন তেলের ঘনত্ব বাড়ছে এবং কাঁচা গন্ধও চলে যাচ্ছে। যখন মিশ্রণটি ঘন ও লালচে রঙ ধারণ করবে, তখন চুলা বন্ধ করে দিন। কিছুটা ঠান্ডা হলে ছেঁকে নিয়ে একটি কাচের বোতলে সংরক্ষণ করুন।

তেল দীর্ঘ সময় ভালো রাখার উপায়—

তেলের স্থায়িত্ব বাড়াতে প্রতি ১০–১২ দিন পর বোতলটি হালকা গরম পানিতে রেখে ৮–১০ মিনিট উষ্ণ করে নিন। এতে তেল নষ্ট হবে না এবং কার্যকারিতাও বজায় থাকবে।

লেখকের শেষ কথা : চুলের যত্নে জবা ফুলের ব্যবহার

চুলের যত্নে জবা ফুলের ব্যবহার। চুলের সমস্যা আজকাল প্রায় সবারই পরিচিত একটি বিষয়। তবে প্রকৃতির উপাদানগুলোর মধ্যে জবা ফুল এমন একটি ভেষজ, যা চুলকে ভিতর থেকে পুষ্টি দেওয়া, ভাঙন কমানো, খুশকি দূর করা এবং চুল দীর্ঘ-ঘন করতে অসাধারণভাবে কাজ করে। নিয়মিত জবা ফুল, জবা পাতা বা জবা তেল ব্যবহার করলে চুলে যে পরিবর্তন আসে তা সত্যিই প্রশংসনীয়।

আমার মতে, বাজারের কেমিক্যালযুক্ত তেলের চেয়ে ঘরোয়া পদ্ধতিতে তৈরি জবা তেল বা জবা প্যাক চুলের জন্য অনেক বেশি নিরাপদ ও কার্যকর। তাই সুস্থ, ঘন এবং শক্ত চুল পেতে চাইলে সপ্তাহে অন্তত ১–২ বার জবা ফুল দিয়ে তৈরি হেয়ার কেয়ার রুটিন অনুসরণ করতে পারেন।

প্রাকৃতিক উপাদানে নিজের সৌন্দর্যচর্চা হোক আরও সহজ ও স্বাস্থ্যকর—এই আশা করি। আপনার চুলের যত্নে জবা ফুল প্রকৃতির এক দারুণ উপহার হয়ে উঠুক।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

নাক্ষোমা এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url